শনিবার, এপ্রিল 4, 2026
Homeঅপরাধমানব পাচারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দার্জিলিংয়ে বৃষ্টির মতো ঝরল বেগুনি...

মানব পাচারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে দার্জিলিংয়ে বৃষ্টির মতো ঝরল বেগুনি গোলাপ

Mankind in Action for Rural Growth (MARG) জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে হাতে তৈরি বেগুনি গোলাপ প্রধান ব্যক্তিত্বদের (key stakeholders) মধ্যে বিতরণ করে দিনটি পালন করেছে।

- Advertisement -

দার্জিলিং, ৩১ জুলাই (সিলিগুড়ি ক্রনিকল) – বুধবার প্রবল বৃষ্টিতে দার্জিলিং ভেসে গেল, যার ফলে একাধিকবার ধসে পড়ল পাহাড়ি রাস্তা এবং এনএইচ১০ বন্ধ হয়ে পড়ল। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও পাহাড়ি শহরে ছড়িয়ে পড়ল এক ভিন্ন ধরনের বার্তা — আশার এবং সচেতনতার।

স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তায় নেমে পড়েন, নীরব অথচ দৃঢ় এক প্রচারের অংশ হিসেবে মানুষের হাতে তুলে দেন বেগুনি গোলাপ। এই ফুলগুলো আকাশ থেকে পড়েনি, বরং এসেছে সেইসব মানুষদের হাত থেকে, যারা মানব পাচারের মতো একটি নীরব ও বিপজ্জনক অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।

- Advertisement -

দার্জিলিং-ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন Mankind in Action for Rural Growth (MARG) বুধবার জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে হাতে তৈরি বেগুনি গোলাপ বিতরণ করে সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।

“বর্ষার কারণে মিছিল-র‍্যালি করা সম্ভব ছিল না। তাই আমরা একটি শান্ত কিন্তু প্রতীকী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই — বেগুনি গোলাপ বিতরণের মাধ্যমে,” বলেন মার্গের প্রতিষ্ঠাতা নির্ণয় জন ছেত্রী

- Advertisement -

এই বেগুনি গোলাপ নির্বাচনটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।

“প্রকৃতিতে গোলাপ কখনও বেগুনি ছিল না। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এই গোলাপের জাত তৈরি করেছে এবং একে ‘এক্সোটিক’ করেছে। এরা টিকে থাকে না নিজেদের প্রাকৃতিক প্রয়োজনের জন্য, বরং অন্যের আনন্দ ও মুনাফার জন্য,” বলেন ছেত্রী।

- Advertisement -

প্রথম বেগুনি গোলাপ ১৮০০ সালের দিকে ইউরোপীয় ও চীনা গোলাপের সংকরায়ণের মাধ্যমে তৈরি হয়।

“মানব পাচারের শিকার নারী ও শিশুরা বেগুনি গোলাপের মতোই—তাদেরও কেবল ভোগের বস্তু এবং মুনাফার উৎসে পরিণত করা হয়,” যোগ করেন ছেত্রী।

বেগুনি গোলাপকে মানব পাচারের বিরুদ্ধে প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের সূচনা হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, যখন এটি ফিলিপিনো নারী ও শিশুদের যৌন পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।

মার্গের স্বেচ্ছাসেবকরা এই গোলাপগুলো হাতে তৈরি করেছেন ক্রোশিয়া ও বুনন (knitting) এর মাধ্যমে এবং প্রতিটি গোলাপের সঙ্গে একটি সচেতনতামূলক বার্তা যুক্ত করে বিতরণ করেন।

“মার্গের স্বেচ্ছাসেবকরা — ঘুম গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রী, লোরেটো কনভেন্টের প্রাক্তন শিক্ষিকা দীপা প্রধান, আইপিএস অফিসার নীলু শেরপা, এবং আমার পরিবারের সদস্যরা — সবাই মিলে ক্রোশিয়া ও বুননের মাধ্যমে এই গোলাপ তৈরি করেন এবং আমাদের এই উদ্যোগে সহায়তা করেন। প্রতিটি গোলাপের সঙ্গে ছিল একটি সচেতনতামূলক বার্তা,” বলেন ছেত্রী।

এই প্রতীকী “বেগুনি গোলাপের বৃষ্টি” শুধু দার্জিলিংয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি — তা ছড়িয়ে পড়েছে বিজনবাড়ি, শিলিগুড়ি, জয়গাঁও এবং ডুয়ার্সের মেখলিগঞ্জ এলাকাতেও।

Students Against Trafficking (SAT), Youth Against Trafficking (YAT) এবং Villagers Against Trafficking (VAT) — মার্গের গঠিত তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠনগুলোর সদস্যরাও এই সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নেন।

গত এক দশকে মার্গ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ৩০টিরও বেশি মানব পাচারবিরোধী ক্লাব গঠন করেছে এবং ২০১০ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে মানব পাচারের বিরুদ্ধে কাজ করছে

“এ পর্যন্ত আমরা ৮০০-র বেশি পাচার হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছি, যার মধ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুরাও রয়েছে,” জানান ছেত্রী।

- Advertisement -
RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular